রূপচর্চায় মধু : ৩৪টি অব্যর্থ টিপস

রূপচর্চায় মধু : ৩৪টি টিপস

ত্বক পরিচর্যায় মধুর ব্যবহার সুপ্রাচীন কাল থেকেই। তবে, আধুনিক জীবনে নিত্যনতুন প্রসাধনীর ব্যবহার বেড়েছে। বেড়েছে ত্বক পরিচর্যায় ক্যামিকেল পণ্যের ব্যবহার। কিন্তু ত্বক পরিচর্যা ও সৌন্দর্য রক্ষায় মধুর ব্যবহার আজো শেষ হয়ে যায়নি। জেনে নিন রূপচর্চায় মধু কিভাবে ব্যবহার করবেন এমন ৩৪টি টিপস।

রূপচর্চায় মধু : ৩৪টি অব্যর্থ টিপস

১. মধু প্রাকৃতকি ময়শ্চোরাইজার হিসেবে কাজ করে। বাতাস থেকে জলীয়বাষ্প ত্বকে টেনে নিয়ে দীর্ঘসময় ত্বকের গভীরে নমনীয়তা ধরে রাখে।

২. প্রতিদিন এক টবেলি চামচ মধু পরষ্কিার ত্বকে লাগিয়ে ১৫-২০ মনিটি রাখুন। পরে কুসুম গরম পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলুন আর পান কোমল ও মসৃণ ত্বক।

৩. বাইরে থেকে ফিরে মধু ও আটা দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এটি মুখে ১০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলনু। এতে মুখের পোড়াভাব কমে যাবে। মুখ হবে উজ্জ্বল।

৪. কয়েকটি বাদাম পেষ্ট করে এর সাথে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিন। এই পেষ্ট ১৫-২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন। প্রতিদিন লাগালে দারুন উপকার পাবেন।

৫. মধু ত্বক ও রোমকূপের গভীরে জমে থাকা ময়লা ও ধূলাবালি দূর করতে দারুন কার্যকর।

৬. মধুতে আছে অ্যান্টব্যিাকটেরিয়াল উপাদান, যা ত্বককে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার ও অন্যান্য জীবানুর হাত থকে বাঁচায়।

৭. এক টেবিল চামচ মধু দুই টেবিল চামচ নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে নিন। চোখ বাদে সারা মুখে ভালোভাবে ঘষে ঘষে লাগান। ১৫-২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।

৮. মধুতে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এনজাইম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান যা ত্বকের মৃত কোষ তুলে নতুন কোষ গঠন করেত সাহায্য করে।

৯. দুই টেবিল চামচ মধু এক টেবিল চামচ বেকিং সোডার সাথে মিশিয়ে নিন। মুখে বা শরীরে হালকা ভাবে ঘষে ঘষে লাগান। কিছুক্ষণ পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন মুখ বা শরীরের ত্বক গভীর থেকে পরিষ্কার হয়ে গেছে।

১০. মধুর অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান টিস্যু পুনর্গঠন করে ত্বকরে কালো দাগ কমাতে সাহায্য করে।

১১. এক টেবিল চামচ মধু ও এক টেবিল চামচ নারকেল বা জলপাই তেল মিশিয়ে ত্বকের ক্ষতচিহ্ন বা দাগের ওপর মালিশ করুন। এরপর তোয়ালে বা কাপড় গরম করে ত্বকের ওপর ধরে রাখুন ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত। প্রতিদিন ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।

১২. ত্বকের ব্রণ, লালচেভাব ও জ্বালাপোড়ার স্থানে হালকা মধু লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মধুর অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বকের ব্রণ, লালচেভাব ও জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে।

১৩. এক কাপ গরম পানতি দুই টবেলি চামচ মধু ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে এক বালতি পানিতে ঢালুন। মধু মেশানো পানিতে গোসল করলে ত্বক পরষ্কিার থাকবে এবং ব্যাকটরেয়িা সংক্রমণের হাত থেকেও রক্ষা পাবে ত্বক।

১৪. দুই টেবিল চামচ নারকেল তেলের সাথে এক টেবিল চামচ মধুর ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ চুলে ভালোভাবে ঘষে ঘষে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর চুল পরিষ্কার করুন। মধুর এনজাইম চুলকে উজ্জ্বল করে আর মাথার ত্বকে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে।

১৫. মধু ও অ্যালোভেরা মিশিয়ে রোদে পুড়ে যাওয়া ত্বকে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। মধুর অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি উপাদান ত্বকের আদ্রতা ধরে রেখে পোড়াভাব কমাতে সাহায্য করে।

১৬. প্রতিদিন সকাল খালিপেটে এক টেবিল চামচ মধু খেলে ত্বক হয় উজ্জ্বল ও টানটান।

১৭. শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনারের সাথে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে চুলের নিচের অংশে ভালোভাবে লাগান। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলনু। চুল হবে উজ্জ্বল ও রশমী কোমল।

১৮. মধু, আমন্ড অয়েল, গুঁড়ো দুধ ও লেবুর রস পরিমাণমতো মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে ভালোভাবে লাগিয়ে ১৫ মনিটি পর ধুয়ে ফেলুন। এটি ব্রণ ও ত্বকের কালোভাব দূর করতে কাজ করে।

১৯. এক চামচ আমন্ড অয়েল ও এক চামচ মধু মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান। এটি ঠোঁট ফাঁটা রোধ করে ও ঠোঁটকে রাখে কোমল, সতেজ।

২০. দুই টেবিল চামচ মধু, আধা চামচ চিনি ও কয়েকফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে স্ক্র্যাব বানিয়ে নিন। এই স্ক্র্যাব ২-৩ মিনিট মুখে লাগিয়ে হালকাভাবে ম্যাসাজ করুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল হবে।

২১. প্রাকৃতিকভাবে চুল কালার বা হাইলাইট করতে মধু দারুন কার্যকরী। মধুর সাথে প্রয়োজনমতো টক দই মিশিয়ে নিন। এরপর চুলের যে অংশ কালার বা হাইলাইট করেত চান, সেখানে ভালোভাবে মিশ্রনটি লাগিয়ে দুই ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। টানা এক সপ্তাহ লাগালে প্রাকৃতিকভাবেই পাবেন চুলের কালার বা হাইলাইটস।

২২. এক টেবিল চামচ মধু ও এক টেবিল চামচ পানির সাথে পরিমাণমতো ময়দা নিয়ে মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করুন। এই পেষ্ট মুখে বিশেষ করে বলিরেখার জায়গায় লাগান। শুকিয়ে গেলে সামান্য পানি নিয়ে ভিজিয়ে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে মুখের বলিরেখা সম্পূর্ণ চলে যাবে।

২৩. তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মধুর সাথে শসার রস ও লেবুর রস মিশিয়ে নিন। তুলার ব্রাশ বানিয়ে মিশ্রনটি ভালোভাবে মুখে লাগান। ৩০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেললে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর হবে।

২৪. চালের গুড়ার সাথে মধু মিশিয়ে নিয়ে ভালোভাবে মুখে লাগান। ত্বক শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। সপ্তাহে দু’বার ব্যবহারে ত্বক হবে কোমল ও ফর্সা।

২৫. মধুর সাথে টমেটোর রস মিশিয়ে মুখে লাগালে ত্বক হবে কোমল ও মসৃন।

২৬. একটি আপেল ও এক টেবিল চামচ মধু ব্লেন্ডারে নিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন। এটি ত্বকের টোনার হিসেবে দারুন কাজ করে। ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে ত্বক উজ্জ্বল হয়।

২৭. শ্যাম্পুর সাথে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ধুয়ে ফেলুন। এতে চুল হবে নমনীয় ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

২৮. মধুর সাথে চিনি, পানি ও বেসন মিশিয়ে ঘন পেষ্ট তৈরি করুন। এটি সাবান বা ফেসওয়াশের পরিবর্তে ব্যবহার করতে পারেন।

২৯. মধুর সাথে কমলার রস ও গোলাপ জ মিশিয়ে মুখে লাগালে ত্বকের সতেজতা ফিরে আসবে।

৩০. মধুর সাথে আপেল বা কমলার রস, একটু মুলতানি মাটি ও টক দই মিশিয়ে নিন। এটি ফেসপ্যাক হিসেবে দারুন কার্যকর।

৩১. নিমপাতা বাটার সাথে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করে নিন। এটি নিয়মিত ব্যবহারে মুখের ব্রণ ও কালো দাগ সম্পূর্ণ চলে যায়।

৩২. এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক টেবিল চামচ মধু ও পরিমাণমতো লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এটি প্রতিদিন সকালে খালিপেটে পান করলে মুখের ত্বক হবে কোমল, মসৃণ ও উজ্জ্বল।

৩৩. এক টেবিল চামচ মধুর সাথে দুই চামচ পাঁকা পেঁপের শাঁস, এক চামচ তরমুজের রস, এক চামচ লেবুর রস, অর্ধেক ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে নিন। এটি মুখ বা শরীরের কালো হয়ে যাওয়া অংশে ঘষে ঘষে লাগান। কয়েক সপ্তাহ ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন।

৩৪. চালের গুড়ার সাথে পরিমাণমতো গোলাপ জল ও আধা টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিন। এটি ত্বকের ব্ল্যক হেডসের ওপর ভালোভাবে ঘষে ঘষে লাগান। নিয়মিত ব্যবহারে মুখের ব্ল্যক হেডসের সমস্যা দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।

 

 

নুসরাত শাহপার তুবা

ই-মেইল: contact@atpoure.com

Leave a Reply