যে সাত ভুল ধ্বংস করে দিতে পারে আপনার চুলের সৌন্দর্য্য

আপনার ঝলমলে কালো মসৃণ চুলগুলো কিন্তু আপনারই কিছু ভুলের কারণে হতে পারে রুক্ষ ও প্রাণহীন। ক্ষতিকর কিছু অভ্যাস প্রতিনিয়ত আপনার চুলের সৌন্দর্য্য নষ্ট করে দিচ্ছে আপনার অজান্তেই। তাই জেনে নিন যে ভুলগুলো কখনই করবেন না।

 

নোংরা চিরুনী ও পুরোনো ক্লিপ ব্যবহার

চুল পরিচর্যার অন্যতম অনুসঙ্গ চিরুনী। ছেলে বা মেয়ে সবার জন্যই এটি অপরিহার্য। অনেকে প্রতিনিয়ত চুল পরিষ্কার রাখতে যত না তৎপর চিরুনীর যত্নে ঠিক ততটাই অনীহা। এটি একেবারেই বাদ দিতে হবে। চিরুনী বা ব্রাশ যাই ব্যবহার করুন না কেন তা সপ্তাহে অন্ততঃ দুই বার পরিষ্কার করুন। ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এক্ষেত্রে একটু এগিয়ে থাকলেও চুলের ক্লিপ বা রাবার ব্যান্ড পরিস্কারের ক্ষেত্রে মেয়েরা কিন্তু ঠিকই একটু অগোছালো। নোংরা চিরুনী, ব্রাশ, ক্লিপ কাঁটা বা রাবার ব্যান্ড ইত্যাদিতে জন্ম নেয় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া যা মাথার ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সেইসাথে অন্যের ব্যবহৃত চিরুনী বা ব্রাশ একদমই এড়িয়ে চলবেন, পারতেপক্ষে ব্যবহারই করবেন না। কেননা অনেকের চুলে খুশকি বা উকুনের মতো সমস্যা যা ছোয়াচে হওয়ার কারণে আপনার মাথার ত্বকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই চুলের যত্নের পাশাপাশি নিয়মিত এসব সরঞ্জাম পরিষ্কার রাখুন।

চুল টাইট করে বাঁধা

অনেকেই আছেন যারা চুল বেশ শক্ত করে বেঁধে রাখতে পছন্দ করেন। অনেকের কাছে এটা আবার স্টাইলের একটা অংশ। কাজের ক্ষেত্রেও এই স্টাইল বেশ জনপ্রিয়। কেননা এতে কাজের সুবিধা হয়। কিন্তু চুলের যত্নে শক্ত করে চুল বাধার বিষয়টি বাদ দিন এখনই। কেননা এতে চুলের উপর চাপ পড়ে, চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। এমনকি চুল পড়ার সমস্যাও দেখা দেয়। তাই চুলের যত্নে এই স্টাইলটি একেবারেই বাদ দেয়া উচিত। আর রাতে শোবার সময় একেবারেই না।

ইলেকট্রনিক গেজেট ব্যবহার

অনেকেই আছেন যারা নিয়মিত হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকান বা স্ট্রেটনার দিয়ে চুল সোজা বা রোলারের সাহায্যে চুল কোঁকড়া করেন। আর এসব কাজ করতে ব্যবহার করা হয় ইলেকট্রনিক পন্য। ড্রায়ার বা স্ট্রেটনারের মতো ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম সরাসরি চুলে ব্যবহার করতে হয় বিধায় এসব পন্য আপনার অজান্তেই চুলের যে কী পরিমাণ ক্ষতি করছে তা আপনার চিন্তারও বাইরে। কেননা এসব পণ্য থেকে নির্গত তাপ সরাসরি চুলে লাগে, যা দীর্ঘদিন ব্যবহারে চুলকে নিষ্প্রাণ ও রুক্ষ করে তোলে। ফলশ্রুতিতে আপনি ভুগবেন চুল পড়ার সমস্যায়।

জাংক ফুডে আসক্তি

আমরা অনেকেই বিশ্বাস করি না দৈনন্দিন খাওয়া দাওয়া শরীর ও ত্বকের সাথে সাথে চুলের উপরও প্রভাব ফেলে। যেমন যারা ব্যালেন্স ডায়েট করেন তাদের ত্বকের পাশাপাশি চুলের উজ্বলতাও বেড়ে যায় কয়েকগুন। আর যারা পুস্টিকর খাওয়া দাওয়া এড়িয়ে চলেন বা জাংক ফুডে বেশি আসক্ত তারা চুল পড়া বা সৌন্দর্য্য নষ্ট হওয়ার সমস্যাকে এড়াতে পারবেন না।

মানসিক চাপ

যতদিন বাঁচবেন ততদিনই থাকবে জীবনের নানা জটিলতা। সেইসাথে থাকবে স্ট্রেস বা মানসিক চাপের মতো সমস্যা। আর মানসিক চাপ মানেই কম ঘুম, খাওয়া দাওয়ায় অনিয়ম, মেজাজ খিঁটখিঁটে ভাব। আর এসব কিছুর প্রভাব গিয়ে পড়ে চুলের উপর। স্ট্রেসকে যেহেতু বাদ দেয়া যাবে না তাই একে ভালোভাবে ম্যানেজ করুন। দেখবেন জীবন হবে সহজ আর আপনি থাকবেন একরাশ সুন্দর চুলের অধিকারী।

গরম পানিতে চুল ধোয়া 

শীতকালেতো বটেই অনেকে সারা বছরই গোসলে গরম পানি ব্যবহার করেন। আর সেইসাথে চুল ধুতেও ব্ভাযবহার করেন গরম পানি। কিন্তু যে কোনো গরম জিনিসই চুলের জন্য বেশ ক্ষতিকর। গরম পানিতে চুল ধোয়া হলে চুল পানি শূণ্য হয়ে নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে। চুল উঠার পাশাপাশি চুল ভেঙ্গে যাওয়ার সমস্যাও দেখা যায়। তাই গরম পানিতে চুল ধোয়ার বদভ্যাস থাকলে তা এখনই পরিহার করুন।

প্রসাধনী ব্যবহার

ফ্যাশন ও স্টাইলকে ঠিক রাখতে অনেকেই চুলে জেল, ক্রিম বা স্প্রে ব্যবহার করেন। এসব পণ্যের বেশি ব্যবহার চুলের জন্য বেশ ক্ষতিকর। এসব পণ্য নিয়মিত ব্যবহারে চুল ভেঙ্গে যাওয়ার পাশাপাশি চুলের উজ্জলতা নষ্ট হয়ে যায়। আর অনেকেই আছেন বন্ধু বা বান্ধবীদের কাছ থেকে শুনে এটা ওটা চুলের উপর প্রয়োগ করেন যা একেবারেই অনুচিত। কেননা অন্যের চুলের জন্য যা কার্যকরী, আপনার চুলের জন্য তা নাও হতে পার। তাই নিজের চুল ও মাথার ত্বকের ধরণ বুঝে প্রসাধণ পণ্য ব্যবহার করুন।

 

 

তাহমিনা তাসির

ই-মেইল: contact@atpoure.com

Leave a Reply