সমুদ্রের বুকে মাথা তুলে রাখা প্রবাল দ্বীপের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই। বিশ্বের হাজার হাজার দ্বীপের মধ্যে কিছু যেমন আপনাকে টানবে, আবার কিছু কিছু দ্বীপ থেকে দূরে থাকাই শ্রেয় মনে করবেন আপনি। মেক্সিকোর পুতুলের দ্বীপ, ইতালির ইসোলা দেলা গাইয়োলা বা বঙ্গোপসাগরের আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ছোট একটি দ্বীপ উত্তর স্যানটিনোল দ্বীপসহ বিশ্বের ভয়ংকর ও রহস্যময় ৫টি দ্বীপ নিয়ে থাকছে এবারের আয়োজন।

ভয়ংকর ও রহস্যময় ৫টি দ্বীপ নিয়ে তথ্যচিত্র দেখুন বাংলায়-

 

ভয়ংকর ও রহস্যময় ৫টি দ্বীপ

পুতুলের দ্বীপ

ভয়ংকর ও রহস্যময় ৫টি দ্বীপ
পুতুলের দ্বীপ, মেক্সিকো। Photo: Wikimedia Commons. Author : Esparta Palma. Source: https://www.flickr.com/photos/esparta/2994076542/sizes/o/

মেক্সিকোর এই দ্বীপটির স্থানীয় নাম ‘লা ইলা ডি লাস মিনিকেস’। বাংলা মানে করলে দাড়ায় পুতুলের দ্বীপ। আক্ষরিক অর্থেই এই দ্বীপের বাসিন্দারা বিভিন্ন আকারের পুতুল। পর্যটক তো দুরে থাক, অবসর কাটাতে স্থানীয়রাও যেতে চায় না এই দ্বীপে। কারণ, দ্বীপটির গাছে গাছে ঝুলে থাকা ভুতুড়ে পুতুল মানুষকে নিরুৎসাহিত করে এই দ্বীপে যেতে।

এর পেছনে অবশ্য একটি করুন কাহিনী রয়েছে বলে লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে। গল্পটি বেশ কিছুদিনের পুরোনো। মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি থেকে ১৫ মাইল দক্ষিণে সাচিমিলোকো খালের প্রান্তে একটি দ্বীপ ‘লা ইলা ডি লাস মিনিকেস’। অনেক বছর আগে ডন জুলিয়ান সান্টানা নামে একজন কেয়ারটেকার থাকতেন এই দ্বীপে। একদিন দ্বীপের পাশে ছোট্ট একটি মেয়েকে ভাসতে দেখেন তিনি। মেয়েটিকে বাঁচানোর চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রাখেননি তিনি। কিন্তু মেয়েটি মারা যায়। মেয়েটির পাশেই একটি পুতুল ভাসতে দেখে সেটিকে স্মৃতি হিসেবে গাছে ঝুলিয়ে রাখেন তিনি। শিশুটির মৃত্যু তারমধ্যে এতটাই প্রভাব ফেলে যে এরপর থেকে প্রায়ই গাছের ডালে পুতুল ঝুলিয়ে রাখতে থাকেন তিনি। দ্বীপটির পাশেই ডুঁবে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত করে যান এই কাজ। আর এখন স্থানীয় লোকজন এবং কখনো কখনো দুঃসাহসী পর্যটকরা গাছের ডালে পুতুল ঝুলিয়ে দিয়ে সেই ধারাকে বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।

 

ইসোলা দেলা গাইয়োলা

ভয়ংকর ও রহস্যময় ৫টি দ্বীপ
ইসোলা দেলা গাইয়োলা। Photo: Public Domain

ছোট্ট একটি দ্বীপ তার সাথে ছবির মতো একটি ভিলা। এই দ্বীপটির মালিক হতে পারা সৌভাগ্যের ব্যাপারই বটে। কিন্তু ইতালির নেপলসে অবস্থিত ইসোলা দেলা গাইয়োলা নামের এই দ্বীপটির বেলায় কিন্তু প্রতিবারই ঘটেছে এর উল্টোটা। স্থানীয়দের কাছে এই দ্বীপ অভিশপ্ত। ঘটনার শুরু উনিশ শতকের শুরুর দিকে। তখন এই দ্বীপে বাস করতেন এক সন্ন্যাসী। একদিন এক অবস্থাসম্পন্ন জেলে এই দ্বীপটি কিনে নিয়ে ভিলা তৈরি শুরু করে। ফলে ওই দ্বীপ থেকে বিতাড়িত হয়ে পড়ে ওই সন্ন্যাসী। এরপর থেকেই অভিশপ্ত হয়ে আছে এই দ্বীপটি।

দ্বীপের প্রথম মালিক লুইগি তার মাছের ব্যবসায় ক্ষতি সামলাতে না পেরে দ্বীপটি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। ১৯২০ সালের দিকে এর পরের মালিক হ্যান্স ব্রাউন নামে এক সুইস ব্যক্তিকে তার কম্বলের মধ্যে মোড়ানো অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। কিছুদিনের মধ্যে তার স্ত্রীও সমুদ্রে ডুবে মারা যায়। এর পরের মালিক এক ধনী জার্মান গাড়ি ব্যবসায়ী যিনি এই ভিলায় হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। পরের মালিক এক ওষুধ ব্যবসায়ী যিনি পাগলাগারদে আত্মহত্যা করেন। এরপর আসেন জার্মান স্টিল ব্যবসায়ী ব্যারন কার্ল পল। তার ব্যবসাতেও নামে ধস। ভিলা ছাড়তে হয় তাকে।

এছাড়া, ইতালির ফিয়াট মোটর কোম্পানির প্রধান জানি এগনিয়েলি এই দ্বীপটি কিনে কিছুদিন বাস করেছেন। এসময় তার পরিবারের অনেক সদস্যরই অপঘাতে মৃত্যু হয়। আমেরিকান তেল ব্যবসায়ী পল গেটি পরে কিনে নেন এই দ্বীপটি। এরপরই তার নাতি জনকে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করা হয়। মুক্তিপণ দিয়ে নাতিকে ফিরিয়ে আনা হলেও জন বাকি জীবন মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় কাটিয়ে দেন। দ্বীপটির শেষ মালিক জিয়ান পাসকেল নামে এক ইন্স্যুরেন্স ব্যবসায়ী জিনি দেউলিয়া হয়ে জেলে যেতে বাধ্য হন।

এতসব ঘটনার পর স্থানীয়রা তো বটেই বাইরের মানুষও দ্বীপটি কিনতে উৎসাহী হয়নি। স্থানীয় সমুদ্রের পরিবেশ রক্ষার জন্য বর্তমানে এই দ্বীপটিতে মানুষের যাতায়াত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এক অর্থে কিন্তু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন এর সম্ভাব্য ক্রেতারা।

পরের পাতায় পড়ুন-

Leave a Reply